ফিচার

সক্রেটিস নির্দোষ ছিল – এথেন্সের আদালতের রায় প্রকাশ

socrates

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস খ্রিষ্টাব্দপূর্ব ৩৯৯ সালে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাসকদের কোপানলে পরে মৃত্যুদণ্ড দন্ডিত হন । ৫০০ জন জুরি নিয়ে গঠিত আদালতে এক প্রহসনমূলক বিচারের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। হেমলক বিষপানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়। তার মৃত্যুর ২৪১৫ বছর পর অবশেষে সক্রেটিস নির্দোষ বলে আদালতের রায় বেরিয়েছে।

কয়েক দিন আগে ওনাসিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আধুনিক এথেন্সের একটি আদালতে বিচারের রায় নিয়ে নতুন করে শুনানি হয়। সে বিচারেই সক্রেটিসকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে রায় দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে একজন মন্তব্য করেন, একই মামলা কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দুটো কাঠগড়া। একটায় দাঁড়িয়ে সক্রেটিস আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেছিলেন। আর দ্বিতীয়টায় তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন গ্রিসসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের ঝানু উকিল। এ বিচার কাজে আমেরিকা ও ইউরোপীয় বিচারকদের সমন্বয়ে একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। আর গ্রিসসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের নামকরা আইনজীবী মামলার শুনানিতে অংশ নেন।

বিচারকরা প্রথমেই প্রশ্ন উত্থাপন করেন- দার্শনিক সক্রেটিস দোষী কি-না ? কারণ প্রাচীন গ্রিসে তার বিরুদ্ধে তরুণদের `খারাপ কাজে` উৎসাহ দান, `ধর্মের অপব্যাখ্যা` ও `দুর্নীতিকে প্রশ্রয়` দেয়ার অভিযোগ আনা হয়।

নিউইয়র্কের বিচারক লরেট্টা প্রেসকা বলেন, ‘সক্রেটিস মানব দরদির ভান করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন খুবই ঔদ্ধত্য প্রকৃতির। তিনি মানুষকে ধর্মের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতেন। এ সময় সক্রেটিসের পক্ষে ফ্রান্সের বিখ্যাত উকিল প্যাট্রিক সিমন বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির অভিমত অপরাধ হতে পারে না। সক্রেটিস সত্যের সন্ধান করতেন। আর সেটি করতে গিয়েই তিনি তার নিজস্ব মত তুলে ধরতেন। তবে আমার মক্কেলের একটাই দোষ তিনি অন্যকে উস্কানিমূলক কথা বলে মানুষকে খেপাতেন। আর সবসময় বাঁকা বাঁকা কথা বলতেন। যেমন- তিনি বলতেন, ‘দেখাও তোমাদের গণতন্ত্র কতটুকু খাঁটি ও বিশ্বাসযোগ্য ইত্যাদি।’

সিমন আরো বলেন, ‘আমার মক্কেল সম্পর্কে একটি শ্লোক হলো- সক্রেটিস মূর্খ ছিলেন। কিন্তু তার মাথায় উদ্ভট বুদ্ধিগুলো এসেছিল বৃটেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানি থেকে। তাই সাধারণ মামলাকে জটিল করার জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেওয়াটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

শিষ্য প্লেটো ও অন্য প্রাচীন লেখকরা সক্রেটিসের মতবাদগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন। ওইসব মতবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় তিনি ধর্ম, রাজনীতি, নৈতিকতা ইত্যাদি বিষয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু শুনানি শেষে বলা হয়, প্রাচীন এথেন্সের আইন অনুযায়ীও সক্রেটিস ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ। কিন্তু তখন তা মানা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছর নিউইয়র্কের একটি আদালতেও সক্রেটিস নির্দোষ প্রমাণিত হন। প্রায় ৮০০ লোক শুক্রবার গ্রিসে সক্রেটিসের পুনর্বিচার প্রত্যক্ষ করতে টিকিট সংগ্রহ করেন। পুনর্বিচারের আয়োজকরা জানান, প্রাচীন গ্রিসে সক্রেটিস গণতন্ত্র ও মুক্ত আলোচনার যে দাবি করেছিলেন, আধুনিক গ্রিসে পুনর্বিচারের আদালত তারই প্রতিধ্বনি। আজকের বিশ্ব রাজনীতি এবং জটিল পরিস্থিতি সক্রেটিসের দাবিকে মেনে নিতে আহ্বান জানায়।

সক্রেটিস খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রিসের এথেন্স নগরীতে এলোপাকি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এ মহান দার্শনিকের সম্পর্কে তথ্য লিখিতভাবে পাওয়া যায় কেবল মাত্র তার শিষ্য প্লেটোর রচনা থেকে। তৎকালীন শাসকদের কোপানলে পড়ে তাকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে পশ্চিমা দর্শনের ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

প্লেটোর বর্ণনামতে সক্রেটিসের বাবার নাম সফ্রোনিস্কাস এবং মায়ের নাম ফিনারিটি। সক্রেটিসের মা একজন ধাত্রী ছিলেন। সক্রেটিসের স্ত্রীর নাম জানথিপি, তিনি সক্রেটিসের থেকে অনেক কম বয়সী ছিলেন। সংসার জীবনে তাদের তিন পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। যাদের নাম ছিলো লামপ্রোক্লিস, সফ্রোনিস্কাস ও মেনেজেনাস। অনেকেই বলেন, সক্রেটিসের স্ত্রী জানথিপি খুব বদ মেজাজি ছিলেন। তবে সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় স্বামীর প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা সবাই বুঝতে পারে। সক্রেটিস তার শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। এর পর নিজ পুত্রদের ত্যাগ করার জন্য সক্রেটিসের বন্ধু ক্রিটো তার সমালোচনা করেছিলেন।

socrates

সক্রেটিস নিজে গরীব ছিলেন, কিন্তু সারাজীবন সবাইকে বিনা মূল্যে শিক্ষা দিতেন। এত বড় পণ্ডিত, কিন্তু তার মধ্যে অহংকারের লেশমাত্র ছিল না। কেউ তাকে রাগ করে কথা বলতে শোনেনি। শত্রু-মিত্র সবার জন্য তার মুখে হাসি লেগে থাকত। কেউ কড়া কথা বললে বা মিথ্যা গালাগালি করলেও তিনি তাতে বিরক্ত হতেন না। অনেক খারাপ লোকও তার উপদেশ শুনে ভালো পথে ফিরেছে। তার মুখের একটি কথায় অনেক অন্যায়-অত্যাচার থেমে যেত। বিপদের সময় দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন তার পরামর্শ শোনার জন্য ছুটে যেতো।

সক্রেটিস এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। সক্রেটিস ছিলেন এক মহান সাধারণ শিক্ষক, যিনি কেবল শিষ্য গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে বিশ্বাসী ছিলেন না। তার কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষায়তন ছিলো না। যেখানেই যাকে পেতেন, তাকেই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন।

‘যা ন্যায় বুঝিব, তাই করিব’ একথাই তার মুখে শোভা পেতো; কারণ তার কথা ও কাজের সমবময় মিল থাকতো। এমন সাধু লোককে যে সবাই ভালবাসবে, সবাই ভক্তি করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সক্রেটিসের শত্রুরও অভাব ছিলো না। কেউ হিংসা, কেউ রাগ আবার কেউ নিজের স্বার্থের জন্য সবসময় তার ক্ষতি করার চেষ্টা করতো। সক্রেটিসকে কেউ সেসব কথা বললে তিনি তা হেসে উড়িয়ে দিতেন।

এথেন্সের তিনজন খ্যতিমান পুরুষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। অভিযোগকারীরা ছিলেন- মেলেটাস, লাইকন ও এনিটাস। মেলেটাস ছিলেন মধ্যম শ্রেণির কবি, লাইকন ছিলেন বক্তা ও এনিটাস একজন গণতান্ত্রিক নেতা। এনিটাসকে সক্রেটিস একসময় বলেছিলেন যে, তিনি যেন তার ছেলেকে তখনই সৈনিকবৃত্তিতে নিয়োগ না করিয়ে আরও কিছু লেখা পড়া শেখান। কিন্তু এনিটাস তা শোনেননি। ফলে কিছুদিন পর যখন ছেলেটা মাতাল এবং দুশ্চরিত্র হয়ে যায়, তখন তিনি সক্রেটিসের উপরই আরও চটে যান।

সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ আনা হয়। তবে তার মধ্যে প্রধান অভিযোগ ছিলো তিনটি। সেগুলো হলো- দেশের প্রচলিত দেবতাদের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন। নতুন নতুন দেবতার প্রবর্তন করার চেষ্টা ও যুবকদের নৈতিক চরিত্র কলুষিত করে তাদের বিপথে চালিত করছেন।

সক্রেটিস অধার্মিক বা নাস্তিক ছিলেন না তা খুবই স্পষ্ট। এথেন্সের প্রচলিত দেবদেবীকে তিনি কেনো, এথেন্সের কোনো শিক্ষিত ব্যক্তিই পৌরাণিক দেবদেবীর গল্প বিশ্বাস করতেন বলে মনে হয় না।

নতুন দেবদেবী প্রবর্তনের অভিযোগটাও ফাঁকা। কারণ এই অভিযোগ যখন উঠতে পারতো তখন তা ওঠেনি। সক্রেটিসের বিচারের বাইশ বছর আগে এ্যারিস্টোফেনিস তার `ক্লাউডস` (Clouds) ব্যাঙ্গাত্মক নাটকে দেখিয়েছেন যে, সক্রেটিস ঘোষণা করছেন দেবতা জিউস সিংহাসন চ্যুত হয়েছেন। তার জায়গায় `ঘূর্ণিবার্তা` এসেছেন। সক্রেটিসের এইরকম চরিত্র সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

আর তরুণদের তিনি শিক্ষা দিয়ে বিপথে নিচ্ছেন। এটিও ভিত্তিহীন অভিযোগ। বোঝাই যায় সক্রেটিসের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার একটিরও কোনো ভিত্তি ছিলো না। সেগুলির একটিও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বার্নেটের মতে, `অভিযোগগুলির মানে যে কি তা কেউ জানতো না। এমন কি অভিযোগকারীরা নিজেরাও জানত বলে মনে হয় না।`

আসলে সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ড একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছাড়া আর কিছু নয়। সক্রেটিসের বেশ কিছু শিষ্য ছিলেন অভিজাত পরিবারের সন্তান। তাদের কেউ কেউ পরবর্তীকালে অভিজাত দল নিয়ন্ত্রিত বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। সন্দেহ নেই যে, তার শিষ্যদের কর্মকাণ্ডের জন্য সক্রেটিস মোটেও দায়ী ছিলেন না। তবে তিনি সে সময়ের এথেনীয় গণতন্ত্রের একজন কড়া সমালোচক ছিলেন। তাঁর তীব্র সমালোচনা থেকে এথেনীয় নেতা পেরিক্লিস থেকে শুরু করে কেউ রেহাই পাননি।

সে সময় বিচারসভায় কোনো উকিল বা আইনজীবী থাকতো না। অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত নিজেরাই নিজের পক্ষ সমর্থন করতেন। বিচারসভায় প্রথমে ঐ তিনজন তাদের অভিযোগ বর্ণনা করেন। তারপর সক্রেটিস উঠে দাঁড়িয়ে বলেন নিজের কথা। সে এক বিচিত্র বিচার। ৫০০ জন জুরির সামনে বিচার কাজ শুরু হয়। ৬০ ভোটের ব্যবধানে সক্রেটিস অপরাধী হিসেবে নির্দেশিত হয়েছিলেন। প্রথমেই তার মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি হয়নি। বিচারের শেষ মুহূর্তে শাস্তি এড়াতে না পারলেও মৃত্যুদণ্ডকে এড়াতে পারতেন সক্রেটিস। তখন এথেন্সের বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ চিহ্নিত হওয়ার পর অপরাধীকে জিজ্ঞেস করা হতো, সে কী শাস্তি চায়। ৫০০ জুরির উপস্থিতিতে সক্রেটিসকেও জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি কী শাস্তি চান।

socrates-2

তিনি যেহেতু নিজেকে অপরাধী মনে করতেন না, তাই তার আচরণ ছিলো স্বভাবসুলভ অনমনীয়। তিনি শাস্তির পরিবর্তে পুরস্কারের প্রস্তাব করেন! উদ্বেগহীন সক্রেটিস প্রস্তাব করলেন- প্রাইটেনিয়াম হলে (পাবলিক হল) তাকে নিয়ে যেনো বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়, প্রথাগতভাবে যা করা হতো গ্রীসের বীরদের জন্য। তাতে জুরিরা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তারা মনে করলেন, সক্রেটিস এই বিচারকে প্রহসন মনে করছে ও তাদের উপস্থিতির সম্মান দিচ্ছে না। ফলে উচ্চারিত হলো, মৃত্যুদণ্ড! প্রথমে তার বিরুদ্ধে জুরি ছিলেন ২৮০ জন ও স্বপক্ষে ছিলেন ২২০ জন। তার ঐ উত্তর শুনে বিরুদ্ধে হয়ে গেলো ৩৩০ জন।

মৃত্যুদণ্ড বা শাস্তি নিয়ে সক্রেটিসের উদাসীনতার এখানেই শেষ নয়। শিষ্য আর বন্ধুরা চেয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ডের আগ পর্যন্ত জেলে আটকে না রেখে জামিনে যেনো মুক্তি দেওয়া হয়। তখন এ প্রথাও ছিলো। সক্রেটিস জামিন হিসেবে দিতে চেয়েছিলেন এক দীনা (রৌপ্যমুদ্রা)। তার বন্ধুরা তৎক্ষণাৎ ব্যক্তিগত দায়িত্বে তিরিশ দীনা দিতে চাইলেন। কিন্তু সে প্রার্থনাও নামঞ্জুর হয়েছিলো। বিচারের প্রায় একমাস পর মৃত্যু হয় সক্রেটিসের, এ-সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।

মৃত্যুর দিনের সন্ধ্যাবেলায় সক্রেটিস তার শিশুপুত্র মিনেজেনাসকে বলেন, ‘তুমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।’ অত্যন্ত হাসিখুশি ও শান্ত দেখাচ্ছিলো সক্রেটিসকে। তাকে ঘিরে বসে আছেন তার ভক্ত, শিষ্য ও বন্ধুরা। মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তাদের গুরুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। সাক্ষী হতে হবে এক অনাকাঙিক্ষত মৃত্যুর। শিষ্যরা সকলেই হতাশা আর আসন্ন বিচ্ছেদের বেদনায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তবে সক্রেটিসের মধ্যে সে বিকার নেই। তিনি নিজের মৃত্যুর পরের পোশাক গোছানো নিয়ে ব্যস্ত। তিনি পরে নিচ্ছেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পোশাক, কারণ তিনি চান না মৃত্যুর পর কেউ তার গায়ে হাত দিক। শিষ্য আর বন্ধুদের কাছ থেকে কিছু সময় আলাদা হয়ে পরিবারের সকলের সাথে কথা বলে নেন তিনি।

জেল কর্মকর্তা খানিক আগে বিদায় জানিয়ে গেলেন। তার দুচোখ ছিলো অশ্রুতে পূর্ণ। তিনি বলে যান, সক্রেটিস ছিলেন তার অভিজ্ঞতায় শ্রেষ্ঠ আসামি। সবচেয়ে ভদ্র আর অসম্ভব সাহসী। কিছুক্ষণ পরই হেমলকের রসে পূর্ণ পাত্র নিয়ে প্রবেশ করে জল্লাদ। তীব্র বিষ এই হেমলক হৃদপিণ্ডে গিয়ে পৌঁছে নিমেষেই শরীরকে অসাড় করে দেয়। জল্লাদ নিরাবেগ কণ্ঠে বললো, ‘এই পাত্রের এক ফোঁটা হেমলকও যেন বাইরে না পড়ে! সবটুকু পান করতে হবে!’ সক্রেটিস জল্লাদকে নিশ্চয়তা দিয়ে বললেন, ‘একটি ফোঁটাও নষ্ট হবে না। তারপর তিনি কিছুক্ষণ প্রার্থনা করলেন। রুদ্ধনিঃশ্বাসে সবাই তাকিয়ে আছে সক্রেটিসের উদ্বেগহীন শান্ত মুখটির দিকে। মানসিকভাবে সকলেই অস্থির, একমাত্র সক্রেটিস ছাড়া।

মৃত্যুর পূর্বে তার বলা শেষ বাক্য ছিল, ‘ক্রিটো, অ্যাসক্লেপিয়াস আমাদের কাছে একটি মোরগ পায়, তার ঋণ পরিশোধ করতে ভুলো না যেনো।’ অ্যাসক্লেপিয়াস হচ্ছে গ্রিকদের আরোগ্য লাভের দেবতা। সক্রেটিসের শেষ কথা থেকে বোঝা যায়, তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন- মৃত্যু হলো আরোগ্য ও দেহ থেকে আত্মার মুক্তি।

(কৃতজ্ঞতা: নতুন সময়)

Comments

Please comments

Copyright © 2016 BanglaMag.

শীর্ষে